আকাশী স্বপ্ন ॥
লিখেছেন: সাদিয়া হোসেন
যাদের
নিয়ে
এই
ওয়েবসাইট,
তাদের
জীবনটা
আমার
কাছে
সব
সময়ই
অন্য
জগতের
থাকবে।
আমি
সব
সময়ই
সে
জীবনকে
কেবল
জানালা
দিয়ে
উঁকি
দিয়ে
দেখতে
পারবো,
স্বপ্নগুলো
নেড়ে
চেড়ে
দেখতে
পারবো
যাদুঘরে
আর্টিফেক্ট
দেখার
মত
কিন্তু
সেগুলো
কখনও
আমার
হবে
না।
হুমায়নীয়
স্টাইলে
এক
দিন
ফুল
বিক্রি
করে
বা
কাগজ
কুড়িয়ে
অল্প
কিছু
উপার্জনও
করে
ফেলতে
পারি।
সারা
জীবন
সেটা
তৃপ্তির
সাথে
মনে
করা
ছাড়া
আর
কিছুই
করতে
হবে
না।
সেই
জীবনে
আমার
প্রবেশাধিকার
শূণ্য।
হবেই
বা
না
কেন।
ইন্টারনেট
প্রজন্মের
মানুষ
আমি।
আমার
বিনোদন
চ্যাটের
নেশায়
মত্ত
হওয়ায়,
ভার্চুয়াল
পৃথিবী
ভ্রমনে।
খালি
পায়ে
বাতাসের
আদর
গায়ে
মেখে
চুল
উড়িয়ে
টায়ারের
পিছনে
দৌঁড়াতে
কেমন
লাগে
সেটা
আমি
কি
করে
বুঝব?
ভাইয়ার
পুরানো
স্কুল
ব্যাগ,
পেন্সিল
বক্স,
বোনের
পুরানো
জামা
পড়েছি
বটে,
কিন্তু
পথের
ধারে
কার
না
কার
ফেলে
দেয়া
অমূল্য
রতন
টুকিয়ে
পাওয়ায়
কি
সুখ
সেটা আমি
জানব
কি
করে?
শীতের
সকালে
গ্রামের
বাড়িতে
মাটির
চুলার
ওমে
বসে
ভাপা
পিঠা
ফু
দিয়ে
খেতে
জানি,
কিন্তু
দেখুন,
ঢাকার
রাস্তা
থেকে
আগুন
ধরানোর
সমস্ত
উপকরণ
জড়ো
করে
রাজপথে
বসে
আগুন
ধরিয়ে
শীত
দূর
করার
থ্রিলের
সাথে
আমার
পরিচয়
নেই।
আমি
জানি
একজন
ইঞ্জিনিয়ার,
ডাক্তার
বা
শিক্ষক
হওয়ার
স্বপ্ন
দেখতে।
ট্যাম্পো
ড্রাইভার
হওয়ার
স্বপ্ন
দেখতে
জানি
না।
আমি
জানি
পড়াশোনা
না
করলে
মায়ের
মুখটা
কালো
হবে।
ওই
পবিত্র
মুখে
আলো
দেখার
জন্যই
আমি
পড়ি।
তাই
দেখুন,
আমি
কি
করে
জানব
তার
কথা
যার
ঘরে
ফিরতে
সন্ধ্যা
হয়ে
গেলে
তেমন
পবিত্র
মুখের
কেউ
লাঠি
নিয়ে
অপেক্ষা
করে
না।
পড়াশোনা
ছাড়া
জীবনে
আমার
আর
কিছু
ছিল
না,
তো
আমি
কি
করে
জানব
সাথে
জীবনসংগ্রামকে
নিতে
কেমন
লাগবে?
দুধ
খাওয়া
নিয়ে
মায়ের
সাথে
যুদ্ধ
করতে
করতে
বড়
হয়েছি।
আমি
তার
কথা
কি
করে
জানি
যে
শুধু
পেট
ভরে
খাওয়ার
জন্য
মায়ের
পাশে
দাঁড়িয়ে
যুদ্ধ
করে? যা জানি না, পারি না,
সেটা জানা পারার ভাব দেখানোর স্পর্ধা করব না। কিন্তু চোখ বন্ধ করে রাখতে
চাই না। টিভির পর্দায়, গাড়ির কাঁচের ভেতর দিয়ে, উঁচু উঁচু অট্টালিকার নিচ
দিয়ে যাওয়ার সময় একটু উপরে তাকিয়ে ওরা আমাদের জীবনকে যেভাবে দেখে, আমি ঠিক
সেভাবে ওদের জীবন দেখতে চাই ঘাসফড়িংদের চোখ দিয়ে। তারপরে, আমি শুধু জানতে
চাই, রক্তের মাংসের মানুষগুলোর সাথে আমার আসলে আদতেই কোন পার্থক্য নেই। চোখ
বন্ধ এবং খোলা অবস্থায় আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি...! |