|
নাম তার রাজু
লিখেছেন: সাধন কুমার ॥
তারিখ: শুক্রবার, ২৭/২/২০০৭ইং।
আমরা
রায়ের
বাজার
বস্তিতে
গিয়ে
বিভিন্ন
পেশার
হতদরিদ্র,
অবহেলিত,
বঞ্চিত
শিশু,
কিশোর
ও
তাদের
বাবা-মা’র
নিকট
বিভিন্ন
বিষয়
সম্বন্ধে
জানতে
চাই।
তারা
তাদের
পরীক্ষিত
জীবনের
নানা
প্রকার
তথ্য
দিয়ে
আমাদেরকে
সাহায্য
করেন।
এরকম
এক
অসহায়,
সহায়-সম্বলহীন
পরিবারের
সন্তান
রাজু
ইসলাম।
পানির
স্রোতের
মত
যেমন
সময়
বয়ে
চলে,
ঠিক
তেমনই
সময়
ও
পরিবেশের
সাথে
পাল্লা
দিয়ে
বয়ে
চলে
রাজু
ইসলামের
জীবন।
একসময়
পদ্মার
ধারে
ছিল
তাদের
বসতবাড়ী
ও
জমি।
পদ্মার
ভাঙ্গনে
জায়গা-জমিন,
বাড়ী
সবই
বিলীন।
মাত্র
৮
বৎসর
বয়সে
পরিবারের
একমাত্র
উপার্জনক্ষম (অন্যের
জমিতে
কৃষিকাজ)
রাজুর
বাবা
মারা
যান।
৩
বৎসর
বয়সী
ছোট
ভাই,
৬
মাস
বয়সী
বোন
আর
মাকে
নিয়ে
তার
অভাবী
সংসার।
ফরিদপুরের
ভাঙ্গা
থানার
একটি
প্রত্যন্ত
গ্রামে
অন্যের
জায়গায়
ছোট
একটি
টিনের
ঘরে
ছিল
তাদের
বাস।
এসময়
তার
মা
অন্যের
বাড়ীতে
কাজ
নেন।
অন্যের
বাড়ীতে
কাজ
করে
শিশুদের
মুখে
একমুঠো
অন্ন
তুলে
দেবার
মত
সামর্থ্যও
তার
মায়ের
ছিল
না।
এই
প্রতিকূল
পরিবেশে
সন্তানদের
মুখে
একমুঠো
অন্ন
তুলে
দেবার
জন্য
বুক
ভরা
আশা
নিয়ে
শহরে
(ঢাকায়)
তারা
পাড়ি
জমায়।
তাদের
আশ্রয়
হয়ে
উঠে
রায়ের
বাজার
বস্তির
একটি
ঝুপড়ী
ঘর।
কিন্তু
সেখানেও
একই
অবস্থা।
গ্রামের
তুলনায়
শহরে
আয়
একটু
বেশি,
কিন্তু
ব্যয়
আরও
বেশি।
একমুঠো
অন্নের
জন্য
মা
অন্যের
বাড়ীতে
কাজ
নেন,
আর
ছোট
রাজু
হয়ে
যায়
টোকাই।
সারাদিন
রোদে
পুড়ে,
বৃষ্টিতে
ভিজে
কাগজ,
প্লাষ্টিকের
ভাঙ্গা
বোতল,
পলিথিন
টোকায়।
সেগুলো
টোকানোর
পর
দিনশেষে
বিক্রি
করে
আয়
হয়
২০/২৫
টাকা।
প্রতিমাসে
বস্তির
ঘর
ভাড়া
দিতে
হয়
১০০০
টাকা।
এছাড়া
বস্তির
মাস্তানদের
ও
জনদরদী
পুলিশ
ভাইদেরকে
দিতে
হয়
প্রতি
সপ্তাহে
৩০-৫০
টাকা।
নোংরা
ডাষ্টবিনের
খাবার
খেয়ে
অথবা
হোটেলের
নানা
খাবারের
উচ্ছিষ্ট
খেয়েইচলে
তাদের
সংসার।
বর্ষায়
পানিতে
ভাঙ্গা
ঝুপড়ি
ঘর
পুরোটা
ভিজে
যায়,
ঘুমোতে
পারে
না,
সারারাত
জেগে
বসে
থাকতে
হয়।
আর
শীতকালে
হাড়কাঁপানো
শীতে
হাড়ে
হাড়ে,
দাঁতে
দাঁতে
বারি
খায়।
এভাবেই
দিনের
পর
দিন
মানবেতর
দিনাতিপাত
করে
তারা।
দিন
যায়
রাত
আসে,
সূর্য
উঠে,
আবার
অস্ত
যায়।
কিন্তু
রাজুদের
ভাগ্যের
কোন
পরিবর্তন
হয়
না।
এখন
রাজুর
বয়স
প্রায়
১৬
বৎসর।
তৃতীয়
শ্রেণী
পর্যন্ত
লেখাপড়া
করেছে
সে।
আর্থিক
অনটনের
কারণে
লেখাপড়া
আর
হয়নি।
বস্তির
পার্শ্বে
একটি
ভাঙ্গারী
(পুরাতন
টিন,
লোহা,
টোকানো
কাগজ,
প্লাষ্টিক)
দোকানে
কাজ
করে
সে।
প্রতি
মাসে
বেতন
পায়
২০০০/-
টাকা।
২০০
টাকা
নিজের
হাত
খরচ
রেখে
বাকী
টাকা
মায়ের
হাতে
তুলে
দেয়
সে।প্রতিদিন
ঘুম
থেকে
উঠে
সারাদিন
দোকানে
হাড়ভাঙ্গা
পরিশ্রম
করে
রাতে
বাসায়
ফেরে।
পরদিন
ঘুম
থেকে
উঠে
আবার
দোকানে।
এভাবেই
রাজুর
দিন
যায়।
তাদেরকে
সাহায্যের
জন্য
বিভিন্ন
রাজনৈতিক,
সরকারী,
বেসরকারী
প্রতিষ্ঠান
ও
এন.জি.ও
এগিয়ে
এসেছে।
দিয়েছে
শুধু
বুক
ভরা
আশ্বাস,
স্বপ্ন
আর
মুখ
ভরা
বুলি।
এসব
প্রতিষ্ঠানের
মাঠকর্মীরা
এসে
তাদের
অসহায়ত্বের
সুযোগ
নিয়ে
ঢাকা
শহরের
এইসব
বস্তিতে
অফিস
তৈরী
করে,
তাদেরকে
নানা
সংগঠনের
সদস্য
দেখিয়ে
মোটা
অংকের
টাকা
সংগ্রহ
করে
রাতের
অন্ধকারে
উধাও
হয়ে
যায়।
আর
বিনিময়ে
এই
সব
রাজুদের
পরিবারগুলো
পায়
ধোকা
আর
হতাশা,
হারায়
তাদের
মনোবল,
আত্মবিশ্বাস।
তাদের
জীবনে
নেই
কোন
বিনোদন,
হাসি-আনন্দ,
নেই
বন্ধুদের
সঙ্গে< |