রেহানা একজন ১৫ বছর
বয়সী কিশোরী। পৃথিবীর আলো-বাতাস পাবার আগেই যখন তার বাবা তাদের ছেড়ে চলে
যায় তখন সে ছিল মাতৃগর্ভে। ভূমিষ্ট হবার ২ বছরের মাথায় শ্রীপুরের একটি
এতিমখানায় রেখে তার মাও নিখুঁজ হয়ে যান। সময়ের তালে তালে বড় হতে থাকে রেহানা।
সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে কঠোর পরিশ্রম ও শারীরিক নির্যাতন। এক সময় সেখান থেকে
পালিয়ে সে ঢাকায় চলে আসে। ঢাকায় এসেই পড়ে একজন লোভী ও স্বার্থপর মহিলার
খপ্পরে। তার সরলতা ও অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তাকে দিয়ে গৃহস্থালী কাজ করিয়ে নিত
সে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হতো এবং সেইসঙ্গে
কপালে জুটতো গৃহকর্ত্রীর প্রহার ও গালিগালাজ। দিনের পর দিন এগুলো তাকে মুখ
বুজে সহ্য করতে হয়েছে। অসহ্য জীবন থেকে রেহাই পাবার আশায় সময় ও সুযোগ বুঝে
রেহানা পালিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়। রাস্তায় নেমে সে মুখোমুখি হয় দারুণ
এক নিন্দিত ও শোষিত পৃথিবীর। দুঃখের পাশাপাশি সুখেরও অবস্থান। ভাগ্যের
কল্যাণে অবশেষে একটি নাম করা প্রতিষ্ঠান তার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসে। তাকে
বিশেষ সেবা ও যত্ন প্রদান করে সুস্থ্য করে তুলে উক্ত প্রতিষ্ঠান। একই
প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে আজ সে একটি বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ালেখা করছে...।
এমন অনেক রেহানার ভাগ্য পরিবর্তন করে দিচ্ছে কিছু মানব কল্যাণমূখী
প্রতিষ্ঠান। ‘আলোকিত পৃথিবী’ বিভাগে আমরা উক্ত প্রতিষ্ঠান সমূহকে তুলে ধরার
চেষ্টা করেছি। উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্নধর্মী উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড,
অবকাঠামো ভিত্তিক কর্ম-দক্ষতা এবং অর্থ সাহায্য দ্বারা অবহেলিত, বঞ্চিত ও
এতিম পথ শিশু/কিশোরদের অন্ধকারময় পৃথিবীকে আলোকিত পৃথিবীতে বদলে দেয়ার
চেষ্টায় অবিরত কাজ করে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান অবহেলিত শিশু/কিশোরদের মৌলিক
চাহিদা নিশ্চিত করার পাশা-পাশি তাদের ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে সর্বাত্বক সহযোগিতা
প্রদান করে থাকে।
আমরা চেষ্টা করেছি এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সমূহ খুঁজে বের করার। জানার চেষ্টা
করেছি তাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কর্মক্ষেত্র কাজের ধরন...। প্রতিষ্ঠানগুলো
আমাদের তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে সহযোগীতা ও অনুপ্রাণিত করেছে। ‘‘ঘাসফড়িং” এর
পক্ষ থেকে আমরা সমস্ত শিশু/কিশোর পূর্ণবাসন ও মানব কল্যানমুখী প্রতিষ্ঠান
সমূহ এবং প্রতিষ্ঠান সমূহের বিভিন্ন পর্যায়ের কলা-কুশলীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
জ্ঞাপন করছি। |